নিয়মিত মোবাইল ফোনের সঙ্গে মস্তিষ্কের ক্ষতির বিষয়টি নানাভাবে এসেছে৷ বিভিন্ন সময়ে মস্তিষ্কে ক্যানসার, নার্ভের ক্ষতি, এবং বিভিন্ন ধরনের টিউমারের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে বলে নানা মহল থেকে দাবি উঠেছে৷তবে, এসব শারীরিক ক্ষতির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷ তার মানে এই নয় যে, মোবাইল ফোন ব্যবহারনিরাপদ৷
রেডিয়েশন কী করে?
মোবাইল ফোন সংক্রান্ত শারীরিক ঝুঁকির বিষয়ে যখন আলোচনা হয়, তখন মোবাইল থেকে ছড়িয়ে পড়া রেডিয়েশনেরবিষয়টি অনেকে সামনে টেনে আনেন৷ অতীতে বিভিন্ন গবেষণায় এটাও বলা হয়েছে যে, মোবাইল ফোনের মাত্রাতিরিক্তব্যবহার মস্তিষ্কে টিউমার সৃষ্টি করতে পারে৷ এই রেডিয়েশন আসলে কতটা ক্ষতিকর? সুইস গবেষক মার্টিন ব়্যুসলির মনেকরেন, মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই৷
বরং মোবাইল থেকে বিচ্ছুরিত রেডিয়েশনকে টিভি এবং রেডিও থেকে বিচ্ছুরিত রেডিয়েশনের সঙ্গে তুলনা করে তিনিবলেন, ‘‘এ ধরনের রেডিয়েশন থেকে সরাসরি কোন ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এটা অসম্ভব৷''
মোবাইল ফোন থেকে শিশুদের দূরে রাখুন...
খুব বেশি কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহারের ফলে শিশুদের মধ্যে আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়৷ ‘আপনার শিশুকেআচরণগত সমস্যার ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে চাইলে ওর হাতে স্মার্টফোন দেবেন না! এভাবেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছেসাম্প্রতিক একটি গবেষণায়৷ গবেষণাটি করেছে জার্মানির লাইপজিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল৷
তাহলে কি উদ্বেগের কোনো কারণ নেই?
মোবাইলের রেডিয়েশন ক্যান্সার বা টিউমার ঘটায় না বলার অর্থ এই নয় যে, সেটি একেবারেই মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি করেনা৷ অতীতে এক গবেষণায় দেখা গেছে মোবাইল ফোন আমাদের ব্রেনওয়েভে পরিবর্তন আনতে পারে৷ নতুন এক গবেষণা, যেটির সহলেখক ব়্যুসলি, বলছে তরুণ প্রজন্মের স্মৃতিশক্তির উপর মোবাইলের বিরুপ প্রভাব রয়েছে৷
সুইস গবেষকরা ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি ৭০০ কিশোর-তরুণের উপর বছরখানেক ধরে গবেষণা করেছে৷এতে দেখা যাচ্ছে, মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন তাদের মস্তিষ্কের বিকাশের উপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিকরে৷
গবেষণাতে অবশ্য আরো একটি মজার বিষয় বেরিয়ে এসেছে৷ যারা মোবাইল ফোন ডানকানে রেখে কথাবলেন, তাদের উপর এই ক্ষতির মাত্রা বাম কানে মোবাইল রেখে কথা বলাদের চেয়ে বেশি৷ এটা হওয়ারকারণ হচ্ছে, মানুষের মস্কিষ্কের স্মৃতি সম্পর্কিত অংশ ডানদিকে অবস্থিত৷ ফলে বামদিকে মোবাইল রেখেকিংবা হেডফোন বা লাউডস্পিকার ব্যবহার করে কথা বললে এই ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব৷

good post
উত্তরমুছুন